প্রস্তুত ১২ লাখ স্মার্ট ড্রাইভিং কার্ড, অর্ধেকের বেশি বিতরণ সম্পন্ন

১৭ অক্টোবর, ২০২২ ১৫:৪৪  
স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্সের জট দূর হওয়ায় এরইমধ্যে আটকে থাকা ১২ লাখের মতো ড্রাইভিং লাইসেন্সের পুরোটাই ছাপানো শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে সরবরাহও করা হয়েছে এর অর্ধেকের বেশি। বাকিগুলো সরবরাহের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ’র পরিচালক ও মুখপাত্র মাহবুব-ই-রব্বানী। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সাল থেকে বিআরটিএ স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান শুরু করে। ৫ বছরে ১৫ লাখ লাইসেন্স সরবরাহের শর্তে ওই বছর টাইগার আইটির সঙ্গে চুক্তি করে বিআরটিএ। কিন্তু ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই টাইগার আইটি ১৪ লাখ লাইসেন্স প্রিন্ট করে দেয়। এ সময়ে বিআরটিএ নিয়মতান্ত্রিকভাবে লাইসেন্স সরবরাহ বন্ধ করে শুধু জরুরি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সরবরাহ শুরু করে। এ কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ২০ মাসে প্রায় ১৪ লাখের মতো নবায়ন ও নতুন লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ে। তবে আবেদন অনুযায়ী লাইনেন্স সরবরাহ করতে পারেনি বিআরটিএ। এরই মধ্যে বিআরটিএ ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ‘মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে ৪০ লাখ ড্রাইভিং লাইসেন্স সরবরাহের চুক্তি করে। ওই কোম্পানি চুক্তির পর যেসব নতুন লাইসেন্স ও নবায়নের আবেদন জমা পড়েছিল— সেগুলো প্রিন্ট ও সরবরাহ শুরু করে। এর বেশি সরবরাহের সক্ষমতাও যেমন তাদের ছিল না, তেমনই আগের প্রতিষ্ঠান টাইগার আইটির বিরুদ্ধেও তথ্য সরবরাহ না করার অভিযোগ ছিল। এ কারণে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের মে পর্যন্ত ২০ মাসে জমা পড়া আবেদনের প্রায় ১২ লাখ লাইসেন্স সরবরাহ ঝুলে থাকে। এই লাইসেন্সগুলো সরবরাহে নতুন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে বিআরটিএ তিন দফা টেন্ডারও আহ্বান করে। তবে মামলার কারণে বিষয়টির আটকে যায়। অবশ্য এরই মধ্যে টাইগার আইটি তার তথ্য ভাণ্ডারে জমা থাকা তথ্যগুলো বিআরটিএ’র কাছে হস্তান্তর করে। পরে সেনাবাহিনী পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডকে (বিএমটিএফএল) ডিপিএম কাজ দেওয়া হয়। যদিও কোভিডের কারণে তারা জার্মানি থেকে সময় মতো মেশিন আনতে না পারায় কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়। এমন পরিস্থিতে গত সেপ্টেম্বরে আটকে থাকা ১১ লাখ ৭০ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রিন্ট করে বিআরটিএ’র কাছে হস্তান্তর করে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) লিমিটেড। এখন বিতরণ করা হচ্ছে এই স্মার্টগুলো। এর মধ্যে ১১ লাখ গ্রাহককে এসএমএস করে তাদের কার্ড সরবরাহের সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এসএমএস পাঠানো চলমান রয়েছে। এসএমএম ছাড়াও সংশ্লিষ্ট সার্কেলে যোগাযোগ করলেও কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই ৭ লাখের বেশি কার্ড সরবরাহ করা হয়েছে।